Thursday, November 24, 2022

শৈবাল (Algae)

শৈবালAlgae পৃথিবীতে বহু প্রকার শৈবাল জন্মে থাকে। এদের কতক এককোষী, কতক বহুকোষী এদের মধ্যে কতক স্থলজ, কতক অবায়বীয় এবং অধিকাংশই জলজ। এরা মিঠা পানিতে এবং লোনা পানিতে জন্মাতে পারে। শৈবালের হাজার হাজার প্রজাতির মধ্যে আকার, আকৃতি, গঠন ও স্বভাবে প্রচুর পার্থক্য আছে। আকার, আকৃতি ও গঠনে বহু পার্থক্য থাকলেও কতিপয়া মৌলিক বৈশিষ্ট্যে এরা সবাই একই রকম, তাই এরা সবাই শৈবাল বা শেওলা নামে পরিচিত। সম্পূর্ণ ভাসমান শৈবালকে ফাইটোপ্লাংকটন বলে। জলাশয়ের পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ হয়ে যে শৈবাল জন্মায় তাদেরকে বেনথিক শৈবাল বলে। পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে লিথো
ফাইট বলে। উচ্চ শ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে এন্ডোফাইট বলে । এপিফাইট হিসেবে এরা অন্য শৈবালের গায়েও জন্মায়। শৈবাল বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা, পরীক্ষণ, রক্ষণ ও গবেষণা করাকে বলা হয় ফাইকোলজি (phycology) বা শৈবালবিদ্যা। গ্রিক Phykos অর্থ seaweed। seaweeds | সকলে। শৈবালবিদ্যাকে অ্যালগোলজি (Algology)ও বলা হয়। সারা বিশ্বে প্রায় ৩০,০০০ প্রজাতির শৈবাল আছে বলে বলা করা হয়। অত্যন্ত সরল প্রকৃতির সালোকসংশ্লেষণকারী, অভাস্কুলার, সমাজদেহী উদ্ভিদ (অধিকাংশই জলজ) যাদের জননাঙ্গ এককোষী এবং নিষেকের পর স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না তাদের শৈবাল বলে। জীবজগতে শৈবালের অবস্থান (Position of Algae in Living World) সাবিনথাম হকারের মতে, শৈবাল একটি শ্রেণি যার উপজগৎ ক্রিপ্টোগ্যামিয়া (অপুষ্পক উদ্ভিদ) এবং বিভাগ থ্যালোফাইটা লাক্ষাদী)-র অন্তর্গত। ছ. লিন মাগুলিস-এর মতে, শৈবাল সুপারকিংডম-ইউক্যারিওটা এবং প্রোটকটিস্টা বা প্রোটিস্টা-র অন্তর্গত। শৈবালের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Algae) ১। শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জনাতে পারে না। ২। এরা সুকেন্দ্রিক, এককোষী বা বহুকোষী। শৈবালে কখনও সত্যিকার মূল, কাণ্ড ও পাতা সৃষ্টি হয় না, অ সমাজদেহী (থ্যালয়েড) । ৩। এদের দেহে অঙুলার টিস্যু নেই। এদের জননাঙ্গ সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হলেও তাতে কোনো কার কোষের আবরণী থাকে না। ৪। এদের স্পোরাজিয়া (রেথলি) সর্বদাই এককোষী। ৫। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রণে পরিণত হয় না । ৬। শৈবালের কোষ প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত। ৭। শৈবালের যৌন জনন আইসোগ্যামাস, অ্যানাইসোগ্যামাস অথবা উগ্যামাস। ৮। দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ শৈবালের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা : সায়ানোব্যাক্টেরিয়াতে গ্লাইকোজেন । ৯। এরা সাধারণত জলীয় বা আর্দ্র পরিবেশে জন্মায়। ১০। সাধারণত সুস্পষ্ট জনাক্রম অনুপস্থিত। শৈবালের দৈহিক গঠন(structure of Algae) পৃথিবীতে বহু ধরনের শৈবাল আছে। এদের আকার, আকৃতি ও গঠনগত পার্থক্য বিদ্যমান। এরা হতে পারে- ১। আণুবীক্ষণিক (যেমন- Prochlorococcus) থেকে দীর্ঘদেহী (যেমন- Macrocystis, প্রায় ৬০ মিটার পর্যন্ত লম্বা)। ২। সচল এককোষী, যেমন- Chlamydomonas এদের কোষে এক বা একাধিক ফ্ল্যাজেলা থাকে। ৩। সচল কলোনিয়াল, যেমন- Volvox, Panadorina, Endorina। এরা সিনোরিয়াম। বিশেষভাবে সজ্জিত নির্দিষ্ট সংখ্যাক কোষের কলোনি হলো সিনোবিয়াম। কোষগুলো পরস্পরের সাথে সাইটোপ্লাজমিক সূত্র দ্বারা যুক্ত থাকে। নিশ্চল এককোষী, যেমন- Chlorococcum, Chlorella এদের ফ্ল্যাজেলা নেই। চিত্র ৫১। কয়েকটি শৈব (১) Chlamydomonar (2) Valvar, (৩) Spirogyra, (8) Chattophoru (e) Canterpa. (a)Polysiphonia (লোহিত শৈবাল) (1) Zygremr (8) Nayicula (হলদে-সোনালী শৈবাল), (a) Sargassam (বাদামী শৈব) (১০) Chana (৮ জন ছাড়া অন্যগুলো সবুজ শৈবাল)।

No comments:

Post a Comment

দলিল পড়ার সহজ উপায়। দলিল‌ কিভাবে পড়বেন? দলিলে ব্যবহত ১০০ টি শব্দ যা জানলে দলিল পড়তে পারবেন সহজে।

দলিল পড়ার সহজ উপায়। দলিল‌ কিভাবে পড়বেন? দলিলে ব্যবহত ১০০ টি শব্দ যা জানলে দলিল পড়তে পারবেন সহজে। 1️⃣ মৌজা 🏡 (গ্রাম) ➡️ যে নির্দিষ্ট ...